Posts

আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি সৌন্দর্য প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

 🎤 ​​৪১। একবার এক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্যার বলেন, অযোগ্যদের অস্ত্র হলো পাংচুয়ালিটি (সময়ানুবর্তীতা, নিয়মানুবর্তীতা ইত্যাদি)। ওরা পাংচুয়াল থেকে কাজ করতে চায়, জিসিয়াসরা পাংচুয়াল হতে পারে না। সাহাবায়ে কেরাম, তাদের কোনো রুটিন লাইফ ছিল না, কি করতেন আলী (রা:), তাদের ডেইলি লাইফ, রুটিন লাইফ বলা মুসকিল। ওমর (রা:) ডেইলি কি করতেন তার রুটিন পাওয়া মুসকিল। বিভিন্ন বয়ানে স্যারের একটা কমন উদাহরন ছিল, আল্লাহ তায়ালা যদি আসমানের তারা মানুষকে সাজাতে বলতো তো মানুষ সোজা লাইনে সাজাতো, সব একই রকম বাল্ব দিয়ে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আসমান সাজিয়েছেন তারকারাজী দিয়ে, কোনটা ছোট কোনটা বড়, কোনটা দূরে কোনটা কাছে, সব এলোপাথারী, এর মধ্যে সৌন্দর্য আছে। বন সুন্দর, সেখানে কোন রুটিন নাই, এলোপাথারী। মানুষের তৈরী রাস্তা সোজা হয়, কিন্তু মেঠোপথ নদী সব আকাঁবাকা হয়, বন জঙ্গলের গাছপালা, পাহার পর্বতের সারিবদ্ধতা, সমুদ্রের গভীরতা ইত্যাদির কোন নির্দিষ্ট মাপ, কোন নির্দিষ্ট রুটিন নাই।

ঈমানের পূর্ণতা বনাম দুনিয়ার আসক্তি প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

 🎤 ​২০৮। স্যার এক মোজাকারায় বলেন, আমাদের ইমান কতটা পূর্ণ, তা অনেক সময় আমাদের পার্থিব বস্তুর প্রতি আসক্তি এবং তার দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার প্রবণতা থেকে বোঝা যায়। প্রসঙ্গক্রমে স্যার একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মনে করো একজন ব্যক্তি একটি দামি ও সুপরিচিত ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল চালাতে অভ্যস্ত। এলাকায় সবাই তাকে এই মোটরসাইকেল চালক হিসেবেই চেনে। এখন, যদি কোনো কারণে তাকে সাইকেল চালিয়ে কোথাও যেতে হয় এবং সে এই ভেবে লজ্জা পান যে, "আমি দামি মোটরসাইকেল চালিয়ে অভ্যস্ত, এখন সাইকেল চালালে লোকে কী ভাববে?" — এই মনোভাবই প্রমাণ করে যে সে এখনো ইমানের পূর্ণাঙ্গ স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি। কেননা, এই পরিস্থিতিতে সাইকেল চালানোকে ছোট বা অসম্মানের মনে করছে, সে তার সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আসবাবের উঁচু—নিচুকে যুক্ত করে ফেলেছে। এই ধরনের মানসিকতা ইমানের দুর্বলতারই লক্ষণ। একজন মুমিন কখনোই পার্থিব বস্তুর মানদণ্ডে নিজের সম্মান বা মর্যাদা পরিমাপ করবে না। বরং, বিনয় এবং আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টিই তার কাছে মুখ্য।  স্যার আরও বলেন, কেউ যদি এই ধরনের পরিস্থিতিতে (দ্বীলের এই অবস্থায়) মাঝে মাঝে সাইকেলও না চালায়, তাহলে দিল ক...

বাংলাদেশ মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বৈঠকে যে আশ্বাস পেলেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা

Image
বাংলাদেশ মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বৈঠকে যে আশ্বাস পেলেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষক প্রতিনিধিরা। রোববার রাজধানীর গুলশানে। ছবি: সংগৃহীত সমকাল প্রতিবেদক  প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ১৫:২৮ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ১৫:৩৩ Facebook X WhatsApp LinkedIn Telegram Messenger Email Share - অ + বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আন্দোলনরত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধিরা। রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক হয়।  বৈঠক শেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন আজীজী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব আমাদের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁদের দল ক্ষমতায় গেলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।’ বিএনপি মহাসচিবের এমন আশ্বাসে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা। দেলোয়ার হোসেন বলেন, অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। শিক্ষকদের প্রস্তাব ও আর্থিক দিক...

আসল সফর হলো অজানার পথে পদক্ষেপ নেওয়া -প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র)

 🎤 ২৭৬। স্যার একবার সফর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছিলেন- আমরা অনেক সময় বলি, *“আমি সফরে যাচ্ছি।”* কিন্তু বাস্তবে আমাদের সফর আসল সফর নয়। আমাদের যাত্রার আগে থেকেই সবকিছু নির্ধারিত থাকে- কোথায় যাচ্ছি, কতদিন থাকব, কোথায় থাকব, কী খাব, কোন গাড়িতে উঠব, কখন ফিরব- সবই আগে থেকে ঠিক করা থাকে। আমরা শুধু সেই নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারে পথ চলি। এই ধরণের যাত্রা মূলত *পরিকল্পিত ভ্রমণ- এটি সফরের গভীর অর্থকে ধারণ করে না।* আসল সফর হলো সেই যাত্রা, যেখানে অজানার পথে পদক্ষেপ নেওয়া হয়- যেখানে গন্তব্য নিশ্চিত নয়, পথের অবস্থা অনিশ্চিত, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা অনির্ধারিত, এবং সময়ের সীমাও অজানা। এই অনিশ্চিত যাত্রাই মানুষকে আত্মসমর্পণ শেখায়- নিজের নয়, বরং আল্লাহর হাতে নিয়তি সঁপে দেওয়ার শিক্ষা দেয়। পথের সমস্ত ফলাফল, সাফল্য-ব্যর্থতা, বিপদ-আপদ, সুখ-দুঃখ-  সবকিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেয়। রাস্তা অজানা, মানচিত্র নেই, অনেক অনিশ্চয়তা আছে। তারপরও নিজের সব উদ্বেগ, পরিকল্পনা, নিরাপত্তা বা ফলাফল নিয়ে চিন্তা না করে আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে আত্মবিশ্বাসী হয়ে অগ্রসর হতে থাকে। এই প্রসঙ...

সকল পেরেশানির উত্তম পরামর্শ -মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

 🎤 ​​৬৭। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন জোহরের নামাজ সাধারণত কেন্দ্রীয় মসজিদে পড়তেন। একদিন ঢাকা থেকে এক ব্যাক্তি স্যারের সাথে দেখা করতে আসে। তাকে খুব পেরেশান দেখাচ্ছিল, নামাজের পর ব্যক্তিগতভাবে কিছু পরামর্শের জন্য বসে। দুপুরের খাবারের সময় ছিল, কাজল ভাই উনাকেও দাওয়াত দিলে স্যারের সাথে উনিও কাজল ভাইয়ের বাসায় যান। কাজল ভাই বলেন, উনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল বড় ধরনের কোন সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। খানার পরে উনি বললেন, আমার কিছু ব্যাক্তিগত পরামর্শ আছে। উনার কথা শুনে কাজল ভাই স্যারকে বললেন, আমি ভেতরে (বাসা) যাচ্ছি। তখন স্যার বললেন না তুমিও থাকো। ঐ মেহমান উনার বিভিন্ন হালত বলতে গিয়ে বলেন যে স্যার আমি এতা বড় সমস্যার মধ্যে পড়েছি যে মাঝে মাঝে মনে হয় যে আমি আত্মহত্যা করি। সমস্যার আলোচনায় তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় রোজগারের জন্য বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেছি, চাকরি, বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা, বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ ইত্যাদি কিন্তু কোন জায়গায় সুবিধা করতে পারিনি। বিভিন্ন ব্যবসা করেছি লোকসান হয়েছে, নতুন করে টাকা বিনিয়োগ করেছি আবার লোকসান হয়েছে, বিভিন্ন জনের নিকট থেকে টাকা ধার করে বিনিয়োগ করেছি আবারও লোকসান হয়েছ...

ফিলিপ ও চার্লিসের ভালোবাসার দ্বন্দ্ব

ভালোবাসার দ্বন্দ্ব বন্ধুত্ব নাকি ভালোবাসা—কোনটা বড়? একদিন যদি আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুই আপনার মতো একই মানুষকে ভালোবাসতে শুরু করে, তখন আপনি কী করবেন? হয়তো ছেড়ে দেবেন, হয়তো লড়বেন, আবার হয়তো সব হারাবেন। আমার নাম ফিলিপ । এই গল্প শুধু আমার নয়—এটা আমার বন্ধু চার্লিস আর আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মানুষ মেডিলা র গল্প। আমরা তিনজন একসাথে শুরু করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাঁড়ালাম এমন এক দ্বন্দ্বের সামনে, যেটা আমাদের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, এমনকি জীবনকেও ভেঙে দিল। অধ্যায় ১: আমাদের শুরু শহরের এক কোণে ছোট্ট কলেজ ক্যাম্পাস। সকালবেলার হালকা রোদে ভেজা মাঠ, আর মৃদু হাওয়া বইছে। তখনই প্রথম আমি দেখেছিলাম মেডিলাকে। লাল শাড়ি, কাঁধে বইভর্তি ব্যাগ, চোখে স্বপ্নের আলো। যেন পুরো পৃথিবী থমকে দাঁড়িয়েছিল তাকে দেখার জন্য। আমি ছিলাম একেবারে সাধারণ ছেলে—চশমা পরা, বইপাগল, অন্তর্মুখী। আমার বন্ধু চার্লিস একেবারে উল্টো। চঞ্চল, হাসিখুশি, সবাইকে মাতিয়ে রাখে। আমরা দুইজন ছিলাম অদ্ভুত এক জুটি—আলাদা আলাদা চরিত্র, তবু অটুট বন্ধুত্ব। মেডিলার সাথে আমাদের পরিচয় হলো এক বিকেলে। লাইব্রেরিতে একটা বই খুঁজছিল...

ঈমানের নূর -প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র)

 কুফর হচ্ছে ঐ জিনিস, যেটা  তার (মানুষের) মনের উপর পর্দা ফেলে দেয়। ভিতরে তারপরেও (ঈমান) আছে, বাইরের পর্দা যদি সরিয়ে নেয়, আবার ঐখান থেকে ঈমান বের হবে, আবার আল্লাহর পরিচিতি বের হবে। আর যদি পরিচিতি বের হয়, তা যত্ন যদি করে; আল্লাহ তাআলার যতগুলো সুন্দর সুন্দর নাম বা সিফাতগুলো আছে। ঐ নামগুলো মানে ঐসব বৈশিষ্ট্যসমুহ। ঐ সিফাতগুলোকে- মানুষের অন্তরের ভিতরেও আল্লাহ তাআলা দিয়ে রেখেছেন। যদি সে মেহনত করে, আল্লাহ তাআলা ঐগুলোকে তাঁর (ভেতর থেকে) আবার বের করে, তা আবার দেখাবেন।  صِبْغَةَ ٱللَّهِ ۖ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ ٱللَّهِ صِبْغَةً ۖ وَنَحْنُ لَهُ عَـٰبِدُونَ  *আল্লাহর রং, আর আল্লাহর চেয়ে ভালো কে রাঙাতে পারে? আর আমরা তাঁরই ইবাদত করি।*  বান্দা আল্লাহর ইবাদত কেন করে? ইবাদত এর মাধ্যমে সে আল্লাহর এত বেশি নৈকট্য অর্জন করবে যে, তাঁর ভিতর থেকে আল্লাহ তাআলার রং বের হয়। একজন সাহাবী একবার রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, "মুমিনের পরিচয় কী?" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম পরিচয় বললেন যে, *তাকে দেখলে আল্লাহর কথা মনে পড়বে।*  তাঁর মধ...