আসল সফর হলো অজানার পথে পদক্ষেপ নেওয়া -প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র)

 🎤 ২৭৬। স্যার একবার সফর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছিলেন- আমরা অনেক সময় বলি, *“আমি সফরে যাচ্ছি।”* কিন্তু বাস্তবে আমাদের সফর আসল সফর নয়।


আমাদের যাত্রার আগে থেকেই সবকিছু নির্ধারিত থাকে- কোথায় যাচ্ছি, কতদিন থাকব, কোথায় থাকব, কী খাব, কোন গাড়িতে উঠব, কখন ফিরব- সবই আগে থেকে ঠিক করা থাকে। আমরা শুধু সেই নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারে পথ চলি।


এই ধরণের যাত্রা মূলত *পরিকল্পিত ভ্রমণ- এটি সফরের গভীর অর্থকে ধারণ করে না।*


আসল সফর হলো সেই যাত্রা, যেখানে অজানার পথে পদক্ষেপ নেওয়া হয়- যেখানে গন্তব্য নিশ্চিত নয়, পথের অবস্থা অনিশ্চিত, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা অনির্ধারিত, এবং সময়ের সীমাও অজানা। এই অনিশ্চিত যাত্রাই মানুষকে আত্মসমর্পণ শেখায়- নিজের নয়, বরং আল্লাহর হাতে নিয়তি সঁপে দেওয়ার শিক্ষা দেয়।


পথের সমস্ত ফলাফল, সাফল্য-ব্যর্থতা, বিপদ-আপদ, সুখ-দুঃখ-  সবকিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেয়। রাস্তা অজানা, মানচিত্র নেই, অনেক অনিশ্চয়তা আছে। তারপরও নিজের সব উদ্বেগ, পরিকল্পনা, নিরাপত্তা বা ফলাফল নিয়ে চিন্তা না করে আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে আত্মবিশ্বাসী হয়ে অগ্রসর হতে থাকে।


এই প্রসঙ্গে স্যার “A Road to Makkah” বইয়ের উদাহরণ টেনে বলেন, মুহাম্মদ আসাদ তাঁর আত্মজীবনীমূলক এই গ্রন্থে সেই সত্যটিই তুলে ধরেছেন। তিনি যখন ইসলাম গ্রহণের পর একা মরুভূমির পথে যাত্রা শুরু করেন, তখন তাঁর সামনে ছিল না কোনো সরকারি প্রোটোকল, না ছিল পূর্বনির্ধারিত পথ, না ছিল থাকার জায়গা, খাবার, কিংবা জীবনের নিশ্চয়তা।


তবু তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন-একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে, সত্যের সন্ধানে, এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে।


সেই অজানা পথেই তিনি প্রকৃত সফরের স্বাদ পেয়েছিলেন। মরুভূমির উত্তপ্ত বালু, পানির অভাব, জীবনের ঝুঁকি- এসবের ভেতর দিয়েই তিনি শিখেছিলেন সফরের আত্মিক অর্থ। তিনি বুঝেছিলেন- *“সফর মানে কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া নয়; বরং নিজের ভেতরের এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় পরিবর্তনের নামই সফর।”* এমন সফর মানুষকে নম্র করে, তাওয়াক্কুল শিক্ষা দেয়, এবং আল্লাহর নিকটবর্তী করে। 


যে সফরে সবকিছু নিশ্চিত, সেখানে মানুষ নিজের ওপর নির্ভর করে, উপকরণের ওপর ভরসা করে; কিন্তু যে সফরে কিছুই নিশ্চিত নয়, সেখানে মানুষ আল্লাহর ওপরই ভরসা করতে শেখে- আর এই অবস্থাই মানুষকে প্রকৃতভাবে পরিণত করে *“মুসাফিরে”*।

Comments

Popular posts from this blog

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরীর(র)জীবনী

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র):বয়ান-২৬৯

হক্কানী ওলামা হযরতদের তাবলীগের কাজে সম্পৃক্ততা-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র)