হক্কানী ওলামা হযরতদের তাবলীগের কাজে সম্পৃক্ততা-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র)

 🎤 ২৭৫। মোহাম্মদপুরে মুফতি মনসুরুল হক সাহেব যখন জামিয়াতুল আবরার রাহমানিয়া নামে নতুন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন, তখন কোনো এক সময়ে স্যার সেখানে গমন করেন। (নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগ, সঠিক সাল তারিখ মনে নেই, শাহ আলম ভাই বলেন)


মাদরাসার ওস্তাদদের একত্র করে মুফতি সাহেব স্যারকে কিছু কথা বলার অনুরোধ জানান। স্যার কথা শুরু করলে, মুফতি সাহেব নিজেও সামনে বসে মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকেন।


স্যার তখন অত্যন্ত দরদভরা কণ্ঠে বলেন:


“আপনারা আলেম-ওলামা, মাদরাসার খেদমতে নিয়োজিত। মাদরাসার নিজস্ব অনেক ব্যস্ততা ও দায়িত্ব আছেই। কিন্তু এর বাইরেও দাওয়াত ও তাবলিগের যে মেহনত চলছে, এই কাজের সাথেও আপনাদের যেকোনো ভাবে সম্পৃক্ত থাকা খুবই জরুরি। যদি আলেমসমাজের অংশগ্রহণ যথেষ্ট না হয়, তবে খুব শীঘ্রই এক বড় ধরনের ফিতনা ও মসিবতের সম্ভাবনা রয়েছে।”


স্যার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, তাবলিগের এই মেহনতে ওলামাদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই এই বিশাল দাওয়াতি মেহনত নিরাপদ, সঠিক দিকনির্দেশনা পূর্ণ এবং শরীয়তের ছায়াতলে থেকে অগ্রসর হতে পারবে। দাওয়াত ও তাবলিগের এই কাজ থেকে আলেমদের বিচ্ছিন্নতা আমজনতার মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে।


স্যার বলেন:

“আজকে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আম জনতা, সাধারণ মুসলমানদের হাতেই চলছে। সাধারণ মানুষই তিন চিল্লা ইত্যাদি মেহনতের মাধ্যমে দীনের দিকে আসছে। এখন যদি ওলামায়ে কেরাম তাদের সাথে যথেষ্টভাবে জড়িত না থাকেন, তাহলে আমজনতা আস্তে আস্তে আলেমদেরকে নিজেদের কাজের অংশী মনে করবে না। তারা বুঝবে – ‘ওলামারা আলাদা, তারা তাবলিগের সাথে নেই।’ তখন স্বাভাবিকভাবে আমজনতা তাবলিগের তিন চিল্লাওয়ালাদের কে (সাথীদের) আসল মুরব্বি ভেবে নেবে। দীনী মাসআলা-মাসায়েল, শরীয়তের বিষয়গুলোও তারা সেখানেই জিজ্ঞেস করবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ভয় হচ্ছে, যদি কোনো ভুল-ভ্রান্তি বা শরীয়তের পরিপন্থী কিছু তাদের মধ্যে দেখা দেয়, আর আলেমগণ তখন লোকমা (সংশোধন) দিতে চান, তাহলেও তারা হয়তো সেই কথা গ্রহণ করবে না। বলবে—‘এরা তো আমাদের সাথে নেই, তাবলিগের মানুষ না, বাইরের লোক।’ দীনি শরিয়তের গুরু আলেমসমাজের কথা এভাবে তাদের কাছে গুরুত্ব হারাবে।”


স্যার তাগিদ দেন, দীনি সকল ব্যস্ততার পাশাপাশি যেকোনোভাবে তাবলিগের এই মেহনতে ওলামায়ে কেরাম দের সম্পৃক্ততা যথেষ্ট হওয়া দরকার, সময় করে শরিক হওয়া দরকার, খোঁজখবর রাখা দরকার। যাতে করে তাদের (আমজনতা) দীনদারি আলেমদের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যখন আপনারা লোকমা দেবেন, তখন তারা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে।

Comments

Popular posts from this blog

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরীর(র)জীবনী

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র):বয়ান-২৬৯