প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরীর(র)জীবনী
৭। মসজিদে নববীতে নামাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে রাস্তার ধারে সুন্দর কিছু বিদেশি সুগন্ধি বিক্রি হতে দেখলাম। দৃষ্টিনন্দন বোতল, আকর্ষণীয় ঘ্রাণ—সব মিলিয়ে মনে হলো কিনে নিয়ে যাই। দেশে ফেরার পর আমার কর্মস্থলের প্রধানকে একটি হাদিয়া দিতে পারলে ভালো হয়—এই নিয়তে স্যারের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করলাম।
স্যার আমার কথার উত্তরে খুব হালকা ভঙ্গিতে মাথা একটু কাত করলেন, অল্পস্বরে, কিন্তু খুব গভীর মহব্বতের সাথে বললেন:
*”থাক, কিনো না।”*
স্যারের কণ্ঠে ছিল না কোনো তিরস্কার, ছিল না কোনো নিরুৎসাহ। বরং অনুভব করলাম, এই সংক্ষিপ্ত বাক্যের মধ্যে স্যার যেন একটি গভীর দৃষ্টি ফুটিয়ে তুলছেন— *”এক উদ্দেশ্য নিয়েই চলো।”*
মনে হলো, স্যারের এই হালকা মাথা কাত করা ও সংক্ষিপ্ত শব্দ ‘থাক, কিনো না’ বহন করছিলো এক গভীর শিক্ষা। বৈধ হলেও সব কিছু গ্রহণযোগ্য (নেওয়ার) নয়, যখন উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যান্য পথের মোহে চূড়ান্ত (এক) মনজিল হালকা হয়ে যাবার সম্ভবনা দেখা দেয়।
স্যার যা বলেন নি, সেটাও অনেক কিছু বলে দেয়। স্যার সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছিলেন যে সব বৈধ কাজই সব সময় সব প্রেক্ষাপটে সমানভাবে কল্যাণকর নয়। কখনো এমনও হয়, বৈধ জিনিস থেকেও বেঁচে থাকাই অন্তরের জন্য বেশি নিরাপদ, *যদি চূড়ান্ত উদ্দেশ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হয়*। দুনিয়ার বৈধ সৌন্দর্যেও মোহ সৃষ্টি হতে পারে—সে মোহে পড়লে লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়, তাই আত্মার হেফাজতে অনেক বৈধ অবলম্বন থেকেও বিরত থাকা অনেক সময় হিকমতের কাজ হয়ে দাঁড়ায়।
ড. মুশফিক আহমেদ চৌধুরী র.
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
Comments
Post a Comment
Thanks a lot