সকল পেরেশানির উত্তম পরামর্শ -মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

 🎤 ​​৬৭। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন জোহরের নামাজ সাধারণত কেন্দ্রীয় মসজিদে পড়তেন। একদিন ঢাকা থেকে এক ব্যাক্তি স্যারের সাথে দেখা করতে আসে। তাকে খুব পেরেশান দেখাচ্ছিল, নামাজের পর ব্যক্তিগতভাবে কিছু পরামর্শের জন্য বসে। দুপুরের খাবারের সময় ছিল, কাজল ভাই উনাকেও দাওয়াত দিলে স্যারের সাথে উনিও কাজল ভাইয়ের বাসায় যান। কাজল ভাই বলেন, উনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল বড় ধরনের কোন সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। খানার পরে উনি বললেন, আমার কিছু ব্যাক্তিগত পরামর্শ আছে। উনার কথা শুনে কাজল ভাই স্যারকে বললেন, আমি ভেতরে (বাসা) যাচ্ছি। তখন স্যার বললেন না তুমিও থাকো। ঐ মেহমান উনার বিভিন্ন হালত বলতে গিয়ে বলেন যে স্যার আমি এতা বড় সমস্যার মধ্যে পড়েছি যে মাঝে মাঝে মনে হয় যে আমি আত্মহত্যা করি। সমস্যার আলোচনায় তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় রোজগারের জন্য বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেছি, চাকরি, বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা, বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ ইত্যাদি কিন্তু কোন জায়গায় সুবিধা করতে পারিনি। বিভিন্ন ব্যবসা করেছি লোকসান হয়েছে, নতুন করে টাকা বিনিয়োগ করেছি আবার লোকসান হয়েছে, বিভিন্ন জনের নিকট থেকে টাকা ধার করে বিনিয়োগ করেছি আবারও লোকসান হয়েছে, চাকরীতে ঢুকেছি তাও ধরে রাখতে পারিনি। এভাবে এতোবেশী ধার কর্জের বোঝা মাথার উপরে যে এখন আমার মহল্লায় থাকাই মুসকিল। বিভিন্ন পাওনাদারের নিকট থেকে কর্জ পরিশোধের পিড়াপিড়ি, বড় ধরনের সমস্যা, কর্জ পরিশোধের কোন উপায় অবলম্বন নাই, আবার নিজের পারিবারিক চাহিদা, বাড়িতে থাকতে পারছি না। তার এই হালতের উপর কাজল ভাই বলেন যে আমি তখন ভাবলাম স্যার এখন কি পরামর্শ দেন দেখবো, একদিকে তো বিভিন্ন জনের কাছে বড় ধরনের কর্জ, আবার তার ব্যাক্তিগত এই হালত। তো স্যার খুব সহজভাবে বললেন যে তুমি তোমার ঐ মহল্লা ত্যাগ করো, আর এমন জায়গায় চলে যাও যেটা তোমার একেবারে অপরিচিত জায়গা, কেউ তোমাকে চিনে না। আর ঐ জায়গায় গিয়ে ছোটখাটো কাজ করো, প্রয়োজনে রিক্সা চালাও, আর একটা টিনের কৌটা কিনে নাও, কৌটার ঢাকনায় ছিদ্র করে নিবে, আর কর্জ পরিশোধের নিয়্যতে দৈনিক কিছু ঐ কৌটায় ফেলবে, আটআনা, চারআনা, একটাকা, দুইটাকা যেটা তোমার জন্য সহজ হয় দৈনিক কিছু করে তোমার এসব ধার পরিশোধের জন্য জমাবে। কাজল ভাই বলেন, তার এতোবড় সমস্যার সমাধান ঐসময় স্যার এতো সহজ করে দিলেন যে আমার কাছে এখন ভাবতেও অবাক লাগে, স্যারের এই পরামর্শের পর আমি দেখলাম যে ঐ মেহমানের আগের চেহারা আর পরের চেহারার মধ্যে অনেক পরিবর্তন, চেহারার পেরেশানী নাই, মনে হচ্ছিল তার বোঝা অনেক হাল্কা হয়ে গেলো।

Comments

Popular posts from this blog

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরীর(র)জীবনী

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র):বয়ান-২৬৯

হক্কানী ওলামা হযরতদের তাবলীগের কাজে সম্পৃক্ততা-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র)