ঈমানের পূর্ণতা বনাম দুনিয়ার আসক্তি প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)
🎤 ২০৮। স্যার এক মোজাকারায় বলেন, আমাদের ইমান কতটা পূর্ণ, তা অনেক সময় আমাদের পার্থিব বস্তুর প্রতি আসক্তি এবং তার দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার প্রবণতা থেকে বোঝা যায়। প্রসঙ্গক্রমে স্যার একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মনে করো একজন ব্যক্তি একটি দামি ও সুপরিচিত ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল চালাতে অভ্যস্ত। এলাকায় সবাই তাকে এই মোটরসাইকেল চালক হিসেবেই চেনে। এখন, যদি কোনো কারণে তাকে সাইকেল চালিয়ে কোথাও যেতে হয় এবং সে এই ভেবে লজ্জা পান যে, "আমি দামি মোটরসাইকেল চালিয়ে অভ্যস্ত, এখন সাইকেল চালালে লোকে কী ভাববে?" — এই মনোভাবই প্রমাণ করে যে সে এখনো ইমানের পূর্ণাঙ্গ স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি। কেননা, এই পরিস্থিতিতে সাইকেল চালানোকে ছোট বা অসম্মানের মনে করছে, সে তার সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আসবাবের উঁচু—নিচুকে যুক্ত করে ফেলেছে। এই ধরনের মানসিকতা ইমানের দুর্বলতারই লক্ষণ। একজন মুমিন কখনোই পার্থিব বস্তুর মানদণ্ডে নিজের সম্মান বা মর্যাদা পরিমাপ করবে না। বরং, বিনয় এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টিই তার কাছে মুখ্য।
স্যার আরও বলেন, কেউ যদি এই ধরনের পরিস্থিতিতে (দ্বীলের এই অবস্থায়) মাঝে মাঝে সাইকেলও না চালায়, তাহলে দিল কখনোই সেই ইমানের স্বাদ অনুভব করতে পারবে না, যা মানুষকে পার্থিব অহংকার ও লোক—লজ্জার ঊর্ধ্বে রাখে। একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো বিনয় ও সরলতা। *দামী জিনিস ব্যবহার করা বা ভালো অবস্থানে থাকা দোষের নয়, কিন্তু এর কারণে নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় ভাবা বা ছোট জিনিসের প্রতি বিতৃষ্ণা অনুভব করা ইমানের দুর্বলতা।* ইমানের পূর্ণতা তখনই আসে যখন আমরা সকল আসবাবের ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহ্র সন্তুষ্টিকে জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য বানাতে পারি।
Comments
Post a Comment
Thanks a lot