উত্তম মেহমান -প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)
২৪৭। কাজল ভাই স্মরণ করেন, হযরত মাওলানা জামাল উদ্দিন স্যার যিনি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, স্যারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাদের মাঝে পরস্পর মহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
কাজল ভাই বলেন,
“আমি একাধিকবার জামাল স্যারের বাসায় স্যারের সাথে গিয়েছি। দেখতাম, উনার মেহমানদারির এক বিশেষ আদব আছে। খাবার পরিবেশনের একটা নির্দিষ্ট তরতীব মেনে চলতেন—একটি আইটেম এনে দিতেন, সেটি শেষ হলে আরেকটি; এভাবে এক এক করে সব পরিবেশন করতেন। একসঙ্গে সব খাবার পরিবেশন করতেন না।”
কাজল ভাই একবার বিস্ময়ের সাথে স্যারকে জিজ্ঞেস করেন,
“স্যার, এমন তরতীব কেন? সব একসাথে দিলে তো যেমন ইচ্ছা মেপে খাওয়া যেত!”
এ কথা শুনে জামাল উদ্দিন স্যার মুচকি হেসে বললেন,
“তোমার স্যার আর কি বলবেন, তার আগে আমিই তোমাকে ঘটনা শুনাই!”
জামাল উদ্দিন স্যার বলেন,
“৭৮ বা ৭৯ সালের কথা। একদিন স্যার আমার বাসায় আসেন। সেদিন বাসায় মেহমানদারী করানোর মতো তেমন কিছু ছিল না। আমার স্ত্রী ঘরের ভিতর থেকে যেটুকু ছিল তা-ই সরলভাবে পরিবেশন করেন—আগের দিনের পান্তা ভাত, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ। কিন্তু তোমার স্যার সে খাবার এমন পরিতৃপ্তি ও আনন্দ নিয়ে চেটে পুটে খেলেন যে তা আমার স্ত্রীর মনে গভীর প্রভাব ফেলল।”
জামাল স্যার উনার আহলিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন:
“এমন মেহমান যদি আমাদের বাসায় আসে, তাহলে কোনো সংকোচ বা চিন্তার কিছু নেই। যিনি পান্তা ভাত এমন তৃপ্তি নিয়ে খেতে পারেন, তার মেহমানদারিতে হৃদয়ের আনন্দ পাওয়া যায়, তার মেহমানদারিতে কোনো সমস্যা নাই।”
এর পর থেকে জামাল উদ্দিন স্যার—এর বাসায় অন্তরের ইচ্ছা হয়ে গিয়েছিল—যখনই মুশফিক স্যার বাসায় আসেন, তার জন্য যত্ন করে বিভিন্ন আইটেম প্রস্তুত করবেন এবং এমনভাবে পরিবেশন করবেন যেন স্যার প্রতিটি আইটেম খান। তাই একসঙ্গে সব কিছু না দিয়ে, ধীরে ধীরে পরিবেশন করতেন, যাতে কোনো কিছু বাদ না পড়ে, এবং স্যার যেন স্বাচ্ছন্দ্যে সবকিছু (প্রতিটা আইটেম) উপভোগ করতে পারেন।
Comments
Post a Comment
Thanks a lot