মেহমান ও মেজবান—উভয়ের হৃদয়ের অবস্থা একে অপরের কাছে প্রকাশ হয়ে যায়-প্রফেসর মুশফিক আহমদ চৌধুরী(র)
২৪৬। কাজল ভাই একবার মেহমানদারির প্রসঙ্গে স্যার—এর একটি গভীর পর্যবেক্ষণের কথা স্মরণ করে বলছিলেন—
*“স্যার বলতেন, মেহমান ও মেজবান—উভয়ের হৃদয়ের অবস্থা একে অপরের কাছে প্রকাশ হয়ে যায়। যে আন্তরিকতা দিয়ে মেহমানদারি করা হয়েছে, তা মেহমান বুঝে ফেলে। আবার যেভাবে মেহমান তা গ্রহণ করেছে, সেটাও মেজবান টের পায়।”*
স্যার বলতেন—এটা শুধু খাবার খাওয়ানো বা দাওয়াতের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক অন্তরঙ্গ হৃদ্যতা, দীলের লেনদেন। যেন এক নীরব মুআমালাহ-হৃদয়ের আদান-প্রদান।
স্যার বোঝাতে চান, এটা এমন এক লেনদেন যা ঢেকে রাখা যায় না, জোর করে সাজানোও যায় না। কথা, আচরণ, পরিবেশন, শরীরী ভাষা, এমনকি হাঁটাচলা ও চোখের চাহনি—সব মিলিয়ে আল্লাহ পাক দীলের ভেতরের হালত প্রকাশ করে দেন। *আল্লাহ পাক উভয়ের মুভমেন্ট, চলাফেরা, পরিবেশন, কথাবার্তার মাধ্যমে তাঁদের মনের অবস্থা প্রকাশ করে দেন—কে কতটা আন্তরিক ছিল।*
স্যারের ভাষায়, মেহমান বুঝে ফেলে যে— এটা শুধুই রেওয়াজ বা চাপের দাওয়াত। আবার মেজবানও অনুভব করেন—এই মেহমান আমার ‘বেতাকল্লুফী’ বা সাদাসিধে পরিবেশনকেই দীল থেকে গ্রহণ করেছেন, নাকি শুধু ভদ্রতা করেছেন।
স্যার ইঙ্গিত প্রদান করেন যে, আল্লাহ পাক দীলের অবস্থা বা অন্তরের সত্তাকে প্রকাশ করে দেন, মুখাবয়ব ও আচরণের মাধ্যমে।
Comments
Post a Comment
Thanks a lot