ইখলাসের গুরুত্ব-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)
২১০। একবার স্যার ইখলাস এর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক তুলে ধরেছিলেন। স্যার বলেন— "ধরা যাক, কোনো ভিআইপি জামাত এসেছে—সেখানে সচিব আছেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অথবা বিদেশী ভাইয়েরা আছেন। তখন আমরা নিজের অজান্তেই খুবই উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে তাদের নুসরতে লেগে যাই। সাথীদের নিয়ে শহরজুড়ে গাসত করি, মেহমানদারিতে কোনো ঘাটতি রাখি না, সময় দেই, মাল খরচ করি, পরিশ্রম করি। আর তখন আমাদের মনেও ভাল লাগে যে, দ্বীনের জন্য কত বড় কাজ করছি, কত সুন্দর মেহনত করছি। তাদের মেহমানদারী করতে আমাদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা কাজ করে। বড় আত্মতৃপ্তি অনুভব করি যে, "আল্লাহ পাক আমাকে দ্বীনের জন্য সময়, মাল ও জান খরচ করার তৌফিক দিলেন।" বড় কর্মকর্তা, সচিব বা বিদেশী জামাত, তাদের নুসরত করার লোকের অভাব হয় না।
কিন্তু যদি কোনো গ্রামের সাধারণ কৃষক ভাইদের জামাত আসে, গরীব মানুষ, কুলি—মজুর শ্রেণির জামাত আসে? তখন সেই একই আগ্রহ, সেই একই আন্তরিকতা, সেই একই সময় দেওয়ার মন—মানসিকতা দেখা যায় না। কিন্তু কেন এমনটা হয়? স্যার প্রশ্ন তোলেন, "কেন ঐ একই আগ্রহ পাই না সাধারণ জামাতের ক্ষেত্রে? কেন হবে এরকম?" গ্রামের খুব গরীব মানুষ, সাধারণ কৃষক, কুলি—মজুরদের জামাত আসে, তখন সেই একই আগ্রহ, সেই একই উদ্দীপনা তাদের নুসরত করার জন্য, তাদের সাথে সময় দেওয়ার জন্য বা তাদের মেহমানদারী করার জন্য থাকে কি?
স্যার বলেন, যদি সত্যিই আমরা—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করি—তাহলে জামাতের সদস্য কারা, সেটার ওপর নির্ভর করার কথা না। এখলাস তো তাকে তাকাজা দেখে কাজ করাবে, ব্যক্তি দেখে নয়। বরং এক জন মুমিনতো এমন জামাতের দিকে বেশি মনোযোগ দেবে, যাদের দুর্বলতা বেশি, যাদের সাহায্য ও নূসরতের প্রয়োজন বেশি। কারণ এসব সাথীর প্রতি খিদমত করলেই আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা বেশি।
Comments
Post a Comment
Thanks a lot