এলেম আল্লাহর বড় নেয়ামত -প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

 🎤 ​২৬৭। স্যার এক বয়ানে বলছিলেন—আল্লাহ তাআলার বড় একটি নিয়ামত মানুষের ওপর হলো তার এলেম। কিন্তু আমরা আজকাল এলেম বলতে যা বুঝি, ওই বাকপটুতা— বক বক করতে পাড়া, বলতে পারা, ব্যাখ্যা করতে পারা, যে যত বকতে পারে, সে তত বড় আলেম! যে যত আলোচনা করতে পারে, তাকে তত বেশি জানে বলে মনে করা হয়। যে যত কথা বলতে পারে, তার এলেমকে তত উচ্চমার্গীয় ভাবা হয়। তার বয়ান বক্তৃতা তাঁকে বাচাল করে তোলে, যেখানেই যায়, সেখানেই সে কথা বলতে চায়, যাতে মানুষ তাকে 'আলেম' মনে করে। যেন কথা না বললে আলেম বলেই গণ্য হবে না।


স্যার বলেন এইটাকে দীনের ময়দানে, ইসলামে, এলেম বলা হয় না, এলেম মানে কেবল মুখে বলা নয়, বরং এলেম মনের একটা অবস্থার নাম, অন্তরের এক নিরব গভীর উপলব্ধি, হৃদয়ের একটি বিশেষ অবস্থা।


এই প্রসঙ্গে স্যার এক মহামূল্যবান ঘটনা উল্লেখ করেন, যা সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু— এর জীবনের এক মুহূর্ত থেকে নেওয়া। তিনি ছিলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো ভাই, এবং তরুণ সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম, যাঁকে “তর্জুমানুল কুরআন” (কুরআনের ব্যাখ্যাকারী) এবং “হিবরুল উম্মাহ” (উম্মতের পণ্ডিত) বলা হতো।


তখন তিনি ছিলেন বয়সে বৃদ্ধ, দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন একবার এক মজলিসে কিছু যুবককে উচ্চস্বরে আলোচনা করতে দেখলেন। তিনি তাদের কাছে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন এবং সেখানে গিয়ে কিছু নসিহত পেশ করলেন। সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বললেন, "তোমাদের চেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের আমি দেখেছি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম— এর সাহাবীগণ) অধিকাংশ সময়ে নীরব থাকতেন। তাঁরা বোবা ছিলেন না; বরং তাঁদের এলেমই তাঁদেরকে বোবা বানিয়ে দিয়েছিল (নীরব করে রেখেছিল)।”


স্যার বলেন, সাহাবিদের নীরবতা ছিল অজ্ঞতার কারণে নয়, বরং অন্তর্দৃষ্টির কারণে। তাদের এলম এত গভীর ছিল, যে তারা প্রতিটি কথা বলার আগে বারবার চিন্তা করতেন—এই কথাটি আল্লাহর সামনে কতটা গ্রহণযোগ্য, এতে ফিতনা আছে কি না, অহংকার লুকিয়ে আছে কি না। ফলে অনেক সময় তারা বলার মতো কিছু থেকেও চুপ থাকতেন। ইলমের গভীরতা মানুষকে প্রতিটি কথা বলার আগে সতর্ক করে তোলে। এই সতর্কতার কারণে তার মনে হয়, নিজের ইলমের তুলনায় মুখের অনেক কথাই হয়তো অনর্থক। ফলে সে চাইলেও অনেক কথা বলতে পারে না। 


স্যার বোঝান, আল্লাহ তাআলা যাকে ইলম দান করেন, তাঁর এলেম তাঁকে আল্লাহর রাস্তা চিনিয়ে দেয়, শয়তানের ধোঁকা চিনিয়ে দেয়, রিয়ার গন্ধ আগেই ধরিয়ে দেয়। তার ইলম যত গভীর হয়, দ্বীনের পথে চলা তার জন্য তত সহজ হয়। তার এই জানাটাই (এলেম) তাকে নির্দেশনা দান করে নিরবতার, সংযমের ও আমলের পথে।

Comments

Popular posts from this blog

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরীর(র)জীবনী

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র):বয়ান-২৬৯

হক্কানী ওলামা হযরতদের তাবলীগের কাজে সম্পৃক্ততা-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র)