কিতাবের দক্ষতা ও এলেম ভিন্ন জিনিস-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)
২৬১। স্যার বলেন, বর্তমানে কেউ যখন এলেম অর্জনের জন্য কোনো মাদ্রাসায় ভর্তি হতে যায় এবং তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, "আপনি কী শিখতে চান?", তখন যদি সে উত্তর দেয়, "আমি ফিকহ শিখতে চাই", তবে এই কথাতেই বোঝা যায় যে সে প্রকৃতপক্ষে এলেমের উপযুক্ত নয়। সে আসলে কিছু 'মালুমাত' বা তথ্য অর্জন করতে চায়।
স্যার সহজভাবে বুঝিয়ে বলেন, মালুমাতের সঙ্গে এলেমের সম্পর্ক অনেকটা ঘাসের সঙ্গে দুধের সম্পর্কের মতো। ঘাস দুধের উৎস হতে পারে, কিন্তু ঘাস নিজেই দুধ নয়।
ঘাস থেকে দুধ তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং এর জন্য বিশেষ যোগ্যতার প্রয়োজন, যা মানুষের জ্ঞানের প্রায় বাইরে। একটি ষাঁড় প্রচুর ঘাস খেলেও এক ফোঁটা দুধও দিতে পারে না। অন্যদিকে, গাভী দুধ দিতে পারে, তবে সব সময় নয়। গাভীর মধ্যে একটি বিশেষ 'হালত' বা 'কাইফিয়ত' থাকা চাই, গাভীর যদি অভ্যন্তরীণ সেই হালত থাকে, তবেই সে ঘাস থেকে দুধ উৎপন্ন করতে পারে।
এই দুধ কোথা থেকে এসেছে? ঘাস থেকে নাকি গাভীর যোগ্যতা থেকে? এই প্রশ্ন রেখে স্যার বলেন, এই দুই বিষয়কে আলাদা করা কঠিন। স্যার উল্লেখ করেন, এখানে ঘাসের চেয়ে গাভীর যোগ্যতার অধিকার বেশি। কারণ গাভী অনেক সময় ঘাস ছাড়াও অন্যান্য জিনিস খেয়েও ভালো দুধ দেয়। আবার ছাগল সিগারেটের গোড়া, প্যাকেটের খোসা, এমনকি নাইলনের মোজা, দৈনিক পত্রিকা ইত্যাদি খেয়েও ভালো দুধ দেয়। এই দুধ আসলে আসে ছাগল বা গাভীর নিজস্ব বিশেষ যোগ্যতা বা বিশেষ হালাত থেকে। ঘাস বা অন্যান্য খানা উপকরণ কেবল সহায়ক মাধ্যম।
স্যার বলেন, ইলমের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। কিতাব পড়তে পারা, ব্যাখ্যা করতে পারা, তথ্য সংগ্রহ করতে পারা, মালুমাত হাসিল হওয়া হতে পারে, কিন্তু যদি তার মধ্যে ইলম গ্রহণের যোগ্যতা না থাকে, ‘বিশেষ ওই হালাত’ না থাকে—তাহলে সত্যিকারের এলেম তার অন্তরে নাজিল হবে না।
স্যার বোঝাতে চান, ঘাস একটা বাহ্যিক উপকরণ, কিন্তু আসল হলো প্রাণীর অন্তরীণ যোগ্যতা ও হালাত। সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন নিরক্ষর, কিন্তু তাদের অন্তরে ছিল পরিশুদ্ধ, এবং কার্যকর ইলম। বই, বিভাগ ও মালুমাত কেবল বাহ্যিক উপকরণ, ইলম পাবার জন্য দরকার নিজের ওই বিশেষ হালাত (যোগ্যতা)। নয়তো মালুমাত কেবল ঘাসই থেকে যাবে—তা থেকে দুধ বের হবে না।
Comments
Post a Comment
Thanks a lot