তওবা ও ইস্তেগফার-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

 🎤 ​২২৮। এক বয়ানে স্যার তওবা ও ইস্তেগফারের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এক উদাহরণ দেন। স্যার বলেন: একজন মহিলা রান্না করছিলেন। পাশেই তাঁর ছোট্ট সন্তান ছিল। তিনি একটু পানি আনতে বাইরে গেলেন। ফিরে এসে দেখলেন, তাঁর সেই অবুঝ শিশুটি চুলার ভেতরে পড়ে গিয়ে পুড়ে মারা গেছে।


এই মর্মান্তিক ঘটনা একজন মায়ের জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ হয়ে থাকবে। তিনি যতবার ঘটনাটি স্মরণ করবেন, ততবার তাঁর হৃদয়ে অনুশোচনার আগুন জ্বলবে, চোখে পানি আসবে, অন্তর কাঁপবে।


স্যার বললেন: এই অন্তরের জ্বালা, এই অশ্রু, এই অনুশোচনা—এটাই ‘ইস্তেগফার’।


ইস্তেগফার মানে শুধু মুখে “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা নয়, বরং এমন গভীর অনুতাপ—যা হৃদয় থেকে আসে, যা ভুলের স্মরণে বারবার দগ্ধ করে, কাঁদিয়ে তোলে।


স্যার এরপর বলেন: আর ওই নারী যদি এই ঘটনার পর নিজের অন্তরে দৃঢ় সংকল্প করে নেন—“আমি জীবনে আর কখনোই আমার কোনও শিশুকে একা রেখে আগুনের কাছে যাব না”—তাহলে এই সিদ্ধান্ত, এই প্রতিজ্ঞা হলো ‘তওবা’।


এই উদাহরণের মাধ্যমে স্যার বুঝিয়েছেন, ইস্তেগফার কেবল মুখের কথা নয়, হৃদয়ের কান্না, যখন অন্তর কাঁদে—তা হয় ইস্তেগফার। আর তওবা কেবল একবারের নয়, বরং একটি পরিবর্তিত জীবনের সিদ্ধান্ত, যখন জীবন বদলায়—তা হয় তওবা।

Comments

Popular posts from this blog

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরীর(র)জীবনী

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র):বয়ান-২৬৯

হক্কানী ওলামা হযরতদের তাবলীগের কাজে সম্পৃক্ততা-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র)