সাহাবাদের এলেন আল্লাহর পাকের সাথে গভীর আত্মিক সম্পর্ক-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)
২৫৯। স্যার বলতেন, সাহাবাদের জ্ঞান বা 'এলেম' ছিল এক বিশেষ ধরনের উপলব্ধি, যা কেবল তথাকথিত মালুমাত বা পাণ্ডিত্য ছিল না। এটি ছিল আল্লাহ তাআলার সাথে এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক, যার মাধ্যমে তাঁরা আল্লাহর ইচ্ছা বুঝতে পারতেন এবং সেই ইচ্ছা পালনে নিজেদের অন্তরে অনাবিল আনন্দ অনুভব করতেন।
স্যার একটি সুন্দর উপমার মাধ্যমে এই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। একজন মা যেমন তার সন্তানের প্রতিটি কান্নাকে আলাদা আলাদাভাবে বুঝতে পারেন, যদিও সন্তানের ভাষা কেবল একটাই – *কান্না*। বাচ্চা জাগতে চাইলেও কাঁদে, ঘুমাতে চাইলেও কাঁদে, ঠান্ডায় কাঁদে, গরমেও কাঁদে, খেতে চাইলেও কাঁদে, এমনকি না খাওয়ার ইচ্ছাও কান্না দিয়েই প্রকাশ করে। প্রতিটি কান্নার সুর এক হলেও একজন মা তার সন্তানের কান্নার ভিন্ন ভিন্ন অর্থ অনুধাবন করতে পারেন। বিভিন্ন হালতে বাচ্চার একই ধরনের কান্নার সুরের ভিন্ন ভিন্ন তফসীর মায়ের কাছে পরিষ্কার। তিনি শুধু সন্তানের প্রয়োজনই বোঝেন না, বরং সেই প্রয়োজন পূরণ করতে পেরে তিনি নিজে আনন্দিত হন।
স্যার বলেন, মা যখন বুঝতে পারেন বাচ্চা দুধ খেতে চাইছে তাই কাঁদছে, তখন তিনি তাকে দুধ দেন। এই কাজটি করতে তাঁর মনে কোনো বিরক্তি আসে না, বরং ভালো লাগে। আবার, বাচ্চা কান্না করছে তো মা টের পেয়ে যান ও কোলে উঠতে চাইছে, মা ক্লান্ত থাকা সত্ত্বেও, এমনকি নিজের জ্বর বা অসুস্থতা সত্ত্বেও উঠে দাঁড়িয়ে তাকে কোলে তুলে নেন। এই কাজটিতেও তিনি পরম আনন্দ পান। *এটিই হলো সন্তানকে গভীরভাবে চেনা*।
সাহাবায়ে কেরামের 'এলেম'ও ছিল ঠিক এমনই। তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সান্নিধ্যে থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁদের কাছে কী চান, তা বুঝতে পারতেন। সেই চাওয়া পূরণের জন্য তাঁরা নিজেদের প্রস্তুত করতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছা পালনে এক গভীর আনন্দ অনুভব করতেন। এই সবকিছু মিলেই ছিল তাঁদের 'এলেম'।
স্যার বিষয়টি পরিষ্কার করে দেন যে, আজকাল আমরা যেগুলোকে 'এলেম' বলি, যেমন বিভিন্ন হাদিস, তফসীর, ফিকাহ, ইত্যাদি এগুলো মালুমাতের বিভিন্ন শাখা, সেগুলো আসলে প্রকৃত 'এলেম'-এ পৌঁছানোর একটি পথ মাত্র, স্বয়ং 'এলেম' নয়। প্রকৃত 'এলেম' হলো আল্লাহর সাথে সেই গভীর সম্পর্ক, তাঁর ইচ্ছাকে বোঝা এবং তা পালনে আত্মিক তৃপ্তি ও আনন্দ লাভ করা।
Comments
Post a Comment
Thanks a lot