ফ্রান্সের প্যারিসে খ্রিস্টান বন্ধুর আবদার-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

 ২৪৫। স্যার প্যারিসে থাকাকালীন, স্যারের এক বন্ধু, খ্রিষ্টান, যিনি স্যারের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক রাখতেন, তিনি একবার একটি অদ্ভুত অনুরোধ নিয়ে এসেছিলেন।


প্যারিসের স্থানীয় এক গির্জায় প্রতি রবিবার আনুষ্ঠানিক যে ধর্মীয় ভাষণ (সারমন) দেওয়া হয়, যা মূলত খ্রিষ্টানদের ‘ওয়াঅয’  বা ধর্মীয় উপদেশের একটি কাঠামোবদ্ধ পাঠ। এসব ভাষণ কখনো ওই গির্জার ফাদার নিজে দেন, আবার কখনো কোনো ইয়াং ভলান্টিয়ারদের দিয়েও পড়ানো হয়।


স্যার বলেন, একবার ওই গির্জায় বক্তব্য দেওয়ার পালা সেই বন্ধুর ওপর এলে, সে স্যারকে অনুরোধ করল:


“তুমি আমার জন্য একটা সুন্দর ‘সারমন’ লিখে দাও।” 


স্যার তার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। স্যার হয়তো ভেবেছিলেন ইসলামের শিক্ষার কিছু বার্তা এমনভাবে দেওয়া যায় যাতে *সার্বজনীন কল্যাণের দিকটা ফুটে ওঠে।*


স্যার তার জন্য একটি অতি পরিচিত কিন্তু গভীর অর্থবোধক দোআ কুরআন শরীফ থেকে উদ্ধৃত করে সারমন আকারে লিখে দেন। দোআটি ছিল নবী মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের। যখন তিনি ফেরাউনের সামনে দাওয়াত নিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে আত্মপ্রকাশের আগেই আত্মশুদ্ধি, এবং কথার শক্তি চাওয়ার অনন্য নমুনা আছে।


*”হে আমার প্রভু! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও, আমার কাজ সহজ করে দাও, আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।”*


رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي


স্যার বলেন, রবিবারের আগেই সে দুই-একবার রিহার্সেল করে এসে আমাকে বলল—


*”এইটা পড়া যাবে না!”*


আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন? সে জানালো, *”এই কথাগুলো বেশি ‘হাই থট’ এর হয়ে গেছে। সবাই বুঝে ফেলবে যে এইটা আমার পেট থেকে বের হয়নি। আমি ধরা পড়ে যাব যে এটা আমি নিজে লিখিনি।”*

Comments

Popular posts from this blog

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরীর(র)জীবনী

প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র):বয়ান-২৬৯

হক্কানী ওলামা হযরতদের তাবলীগের কাজে সম্পৃক্ততা-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র)