Posts

যেকোনো সময় সচল হতে পারে কার্যক্রম

  প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করিনি। এমনকি তাদের রেজিস্ট্রশনও স্থগিতও করা হয়নি। শুধুমাত্র তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে জিটিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক মেহেদি হাসানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারবে না। তারা একটি দল হিসেবে বৈধ কিন্তু তাদের কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। যেকোনো সময় তাদের কার্যক্রম সচল করা হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ব্যাখ্যা দিতে পারবে। তারা বলতে পারবে নির্বাচনে কোন দল অংশ নিতে পারবে। কারণ তারা নির্বাচন অনুষ্ঠান করছে। সুতরাং তারাই ভালো বলতে পারবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের লাখ লাখ সমর্থক আছে এটা আমি মানি না, তবে তাদের সমর্থক আছে। তাদের সমর্থকরা সাধারণ ভোটারের মতোই ভোট প্রদান করতে পারবে। তবে সেখানে শুধু আওয়ামী লীগের প্রতীক থাকবে না। এ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, আওয়ামী লীগ...

লাইফস্টাইল চিয়া সিড খেতে ভুল করলেই বাড়বে ক্যানসারের ঝুঁকি

লাইফস্টাইল চিয়া সিড খেতে ভুল করলেই বাড়বে ক্যানসারের ঝুঁ চিয়া সিড—এই ছোট্ট দানাগুলো আজকাল স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এক অনন্য নাম। ‘সুপারফুড’ খেতাব পাওয়া এই বীজে আছে প্রচুর ভিটামিন বি-১, প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন। নিয়মিত চিয়া সিড খেলে শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে, ত্বক হয় উজ্জ্বল, চুল থাকে ঘন ও সুস্থ, এমনকি সামগ্রিকভাবে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। এ কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বহু মানুষ এখন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় চিয়া সিড যোগ করছেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, চিয়া সিডসের অসাধারণ গুণ রয়েছে যেমন, তেমনই আবার কারো কারো ক্ষেত্রে এটি বিষের সমান। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে আপনিও যদি চিয়া সিডস খেয়ে থাকেন, তবে নিজের অজান্তে কোনো ক্ষতি করছেন কি না জেনে নিন— বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, চিয়া সিডস পুরোপুরি ভিজিয়ে তবেই খেতে হবে। নয়তো চিয়া সিডসই হয়ে উঠতে পারে ক্ষতির কারণ। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজিস্টদের মতে পুরোপুরি না ভেজা চিয়া সিডস একদিন ক্যানসারের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া শুকনা চিয়া সিডস খেলে খিদে না...

ইখলাসের গুরুত্ব-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

 ২১০। একবার স্যার ইখলাস এর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক তুলে ধরেছিলেন। স্যার বলেন— "ধরা যাক, কোনো ভিআইপি জামাত এসেছে—সেখানে সচিব আছেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অথবা বিদেশী ভাইয়েরা আছেন। তখন আমরা নিজের অজান্তেই খুবই উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে তাদের নুসরতে লেগে যাই। সাথীদের নিয়ে শহরজুড়ে গাসত করি, মেহমানদারিতে কোনো ঘাটতি রাখি না, সময় দেই, মাল খরচ করি, পরিশ্রম করি। আর তখন আমাদের মনেও ভাল লাগে যে, দ্বীনের জন্য কত বড় কাজ করছি, কত সুন্দর মেহনত করছি। তাদের মেহমানদারী করতে আমাদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা কাজ করে। বড় আত্মতৃপ্তি অনুভব করি যে, "আল্লাহ পাক আমাকে দ্বীনের জন্য সময়, মাল ও জান খরচ করার তৌফিক দিলেন।" বড় কর্মকর্তা, সচিব বা বিদেশী জামাত, তাদের নুসরত করার লোকের অভাব হয় না।  কিন্তু যদি কোনো গ্রামের সাধারণ কৃষক ভাইদের জামাত আসে, গরীব মানুষ, কুলি—মজুর শ্রেণির জামাত আসে? তখন সেই একই আগ্রহ, সেই একই আন্তরিকতা, সেই একই সময় দেওয়ার মন—মানসিকতা দেখা যায় না। কিন্তু কেন এমনটা হয়? স্যার প্রশ্ন তোলেন, "কেন ঐ একই আগ্রহ পাই না সাধারণ জামাতের ক্ষেত্রে? ...

আল্লাহ যাকে চান তাকেই নির্বাচন করেন-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

Image
  মুশফিক স্যার (রহঃ) আল্লাহ যাকে চান তাকেই নির্বাচন করেন (মাজালিসে মুশফিক আহমেদ রহঃ) জানুয়ারি ১, ২০২৫ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَن يَشَاء (3-74) “আল্লাহর রহমত দিয়ে যাকে চান তাকে নির্বাচন করেন,” يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاء وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ* اللَّهُ (42-13) “যাকে চান তাকে নিজের জন্যে নির্বাচন করে নেন, আর যে প্রত্যাবর্তন করে তাকে পথ দেখান।” প্রথমত ঈমান পাওয়াই একটা নির্বাচন, নামাজ-রোযা করতে পারা এগুলো নির্বাচন। দাওয়াত এর কাজে শরীক হতে পারা একটা নির্বাচন, এগুলো আল্লাহ্ তায়ালার এহসান। এই সব কিছুর পরে যে কোন জমানায় দ্বীনের কাজের হেফাজতের জন্যে কাউকে নেওয়া, এটা আল্লাহ্ তায়ালার তরফ থেকে একটা বহুত বড়, খুবই বিশিষ্ট ধরনের নির্বাচন। আল্লাহ্ তায়ালা বিভিন্ন জমানায় বড় সংকটের সময় তাঁর খাস বান্দাদেরকে দ্বীনের হেফাজতের জন্যে নির্বাচন করেছেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের পর গোটা উম্মত যখন বিভ্রান্ত, তখন আবু বকর সিদ্দীক রাযিআল্লাহু তায়ালা আনহু এসে সবাইকে শান্ত করেছেন। আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকেই ব্যবহার করেছেন এই বিভ্রান্তির সময় উম্মতকে শুদ্ধ পথ দেখাবার জন্য। এ...

হক্কানী ওলামা হযরতদের তাবলীগের কাজে সম্পৃক্ততা-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী(র)

 🎤 ২৭৫। মোহাম্মদপুরে মুফতি মনসুরুল হক সাহেব যখন জামিয়াতুল আবরার রাহমানিয়া নামে নতুন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন, তখন কোনো এক সময়ে স্যার সেখানে গমন করেন। (নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগ, সঠিক সাল তারিখ মনে নেই, শাহ আলম ভাই বলেন) মাদরাসার ওস্তাদদের একত্র করে মুফতি সাহেব স্যারকে কিছু কথা বলার অনুরোধ জানান। স্যার কথা শুরু করলে, মুফতি সাহেব নিজেও সামনে বসে মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকেন। স্যার তখন অত্যন্ত দরদভরা কণ্ঠে বলেন: “আপনারা আলেম-ওলামা, মাদরাসার খেদমতে নিয়োজিত। মাদরাসার নিজস্ব অনেক ব্যস্ততা ও দায়িত্ব আছেই। কিন্তু এর বাইরেও দাওয়াত ও তাবলিগের যে মেহনত চলছে, এই কাজের সাথেও আপনাদের যেকোনো ভাবে সম্পৃক্ত থাকা খুবই জরুরি। যদি আলেমসমাজের অংশগ্রহণ যথেষ্ট না হয়, তবে খুব শীঘ্রই এক বড় ধরনের ফিতনা ও মসিবতের সম্ভাবনা রয়েছে।” স্যার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, তাবলিগের এই মেহনতে ওলামাদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই এই বিশাল দাওয়াতি মেহনত নিরাপদ, সঠিক দিকনির্দেশনা পূর্ণ এবং শরীয়তের ছায়াতলে থেকে অগ্রসর হতে পারবে। দাওয়াত ও তাবলিগের এই কাজ থেকে আলেমদের বিচ্ছিন্নতা আমজনতার মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। স্যার বলেন: “আজকে দাওয়া...

ফ্রান্সের প্যারিসে খ্রিস্টান বন্ধুর আবদার-প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

 ২৪৫। স্যার প্যারিসে থাকাকালীন, স্যারের এক বন্ধু, খ্রিষ্টান, যিনি স্যারের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক রাখতেন, তিনি একবার একটি অদ্ভুত অনুরোধ নিয়ে এসেছিলেন। প্যারিসের স্থানীয় এক গির্জায় প্রতি রবিবার আনুষ্ঠানিক যে ধর্মীয় ভাষণ (সারমন) দেওয়া হয়, যা মূলত খ্রিষ্টানদের ‘ওয়াঅয’  বা ধর্মীয় উপদেশের একটি কাঠামোবদ্ধ পাঠ। এসব ভাষণ কখনো ওই গির্জার ফাদার নিজে দেন, আবার কখনো কোনো ইয়াং ভলান্টিয়ারদের দিয়েও পড়ানো হয়। স্যার বলেন, একবার ওই গির্জায় বক্তব্য দেওয়ার পালা সেই বন্ধুর ওপর এলে, সে স্যারকে অনুরোধ করল: “তুমি আমার জন্য একটা সুন্দর ‘সারমন’ লিখে দাও।”  স্যার তার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। স্যার হয়তো ভেবেছিলেন ইসলামের শিক্ষার কিছু বার্তা এমনভাবে দেওয়া যায় যাতে *সার্বজনীন কল্যাণের দিকটা ফুটে ওঠে।* স্যার তার জন্য একটি অতি পরিচিত কিন্তু গভীর অর্থবোধক দোআ কুরআন শরীফ থেকে উদ্ধৃত করে সারমন আকারে লিখে দেন। দোআটি ছিল নবী মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের। যখন তিনি ফেরাউনের সামনে দাওয়াত নিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে আত্মপ্রকাশের আগেই আত্মশুদ্ধি, এবং কথার শক্তি চাওয়ার অনন্য নমুনা আছে। *”হে আমার প্রভু! আমার বক্ষ প্রশস্ত ...

উত্তম মেহমান -প্রফেসর মুশফিক আহমেদ চৌধুরী (র)

 ২৪৭। কাজল ভাই স্মরণ করেন, হযরত মাওলানা জামাল উদ্দিন স্যার যিনি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, স্যারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাদের মাঝে পরস্পর মহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কাজল ভাই বলেন, “আমি একাধিকবার জামাল স্যারের বাসায় স্যারের সাথে গিয়েছি। দেখতাম, উনার মেহমানদারির এক বিশেষ আদব আছে। খাবার পরিবেশনের একটা নির্দিষ্ট তরতীব মেনে চলতেন—একটি আইটেম এনে দিতেন, সেটি শেষ হলে আরেকটি; এভাবে এক এক করে সব পরিবেশন করতেন। একসঙ্গে সব খাবার পরিবেশন করতেন না।” কাজল ভাই একবার বিস্ময়ের সাথে স্যারকে জিজ্ঞেস করেন, “স্যার, এমন তরতীব কেন? সব একসাথে দিলে তো যেমন ইচ্ছা মেপে খাওয়া যেত!” এ কথা শুনে জামাল উদ্দিন স্যার মুচকি হেসে বললেন, “তোমার স্যার আর কি বলবেন, তার আগে আমিই তোমাকে ঘটনা শুনাই!” জামাল উদ্দিন স্যার বলেন, “৭৮ বা ৭৯ সালের কথা। একদিন স্যার আমার বাসায় আসেন। সেদিন বাসায় মেহমানদারী করানোর মতো তেমন কিছু ছিল না। আমার স্ত্রী ঘরের ভিতর থেকে যেটুকু ছিল তা-ই সরলভাবে পরিবেশন করেন—আগের দিনের পান্তা ভাত, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ। কিন...